ধুনটে প্রশাসনের ‘চোর-পুলিশ’ খেলা: বেপরোয়া মাটি ব্যবসায়ীরা
জনতার দৃষ্টি
আপডেট: 4 months ago

ধুনট উপজেলায় ফসলি জমির বুক চিরে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলেও, একে কেবলই ‘চোর-পুলিশ খেলা’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের গাড়ি আসার খবর পেয়ে মাটি ব্যবসায়ীরা সটকে পড়লেও, অভিযান শেষ হতে না হতেই দ্বিগুণ উৎসাহে শুরু হয় খনন কাজ। ফলে একদিকে যেমন কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাটিখেকো সিন্ডিকেট।
ধুনট উপজেলায় ফসলি জমির বুক চিরে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলেও, একে কেবলই ‘চোর-পুলিশ খেলা’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের গাড়ি আসার খবর পেয়ে মাটি ব্যবসায়ীরা সটকে পড়লেও, অভিযান শেষ হতে না হতেই দ্বিগুণ উৎসাহে শুরু হয় খনন কাজ। ফলে একদিকে যেমন কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাটিখেকো সিন্ডিকেট।
ফসলি জমি গিলে খাচ্ছে ভেকু
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলি জমিতে গভীর গর্ত করে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসব মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ধুলোয় ধূসরিত হয়ে পড়ছে এবং চুরমার হচ্ছে সরকারের লাখ লাখ টাকায় নির্মিত পাকারাস্তা।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন যখন অভিযানে আসে, তখন মাঠ থাকে জনশূন্য। কিন্তু অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পরেই আবার গর্জে ওঠে ভেকুর ইঞ্জিন। এই যেন এক চোর-পুলিশ খেলা।
"প্রশাসনের লোক আসলে তারা মেশিন বন্ধ করে পালায়। তারা চলে গেলেই আবার মাটি কাটা শুরু হয়। মনে হয় যেন চোর-পুলিশ খেলা চলছে। আমাদের চোখের সামনে আবাদি জমিগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় কৃষক বলেন-
মাটিবাহী ট্রাক্টরের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। ধুলোবালির কারণে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এছাড়া দ্রুতগতির এসব ট্রাক্টরের কারণে ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দাপট
অভিযোগ রয়েছে, মাটি ব্যবসায়ীদের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত। ফলে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই অবৈধ ব্যবসা চলছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফসলি জমি রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জরিমানাও করা হচ্ছে। তবে লোকবল সংকটের কারণে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রয়োজন: ধুনটের প্রাণপ্রকৃতি ও কৃষি জমি রক্ষায় কেবল সাময়িক অভিযান নয়, বরং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল। অন্যথায় অচিরেই হারিয়ে যাবে উর্বর ফসলি জমি, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

